এমসিসিআরইউ রিপোর্ট : সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ শিবিরের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। গত রোববার রাতে তাকে হয়রানি, অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এটি বন্ধুদের মধ্যে হওয়া ব্যক্তিগত ঝামেলাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। 

 

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জুলফিকার কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং হোস্টেলের ৪০৪ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মাহিদুর রহমান ও রুহুল ইসলাম একই বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

 

লিখিত আবেদনে জুলফিকার জানান, সম্প্রতি ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবিরের কয়েকজন কর্মী তাঁর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অন্যায্য আচরণ করেন। ঘটনার একপর্যায়ে কোনো বৈধ কর্তৃত্ব বা অনুমতি ছাড়াই তাঁরা ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করেন এবং ব্যক্তিগত তথ্যাদি জানতে চান। তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাঁর মায়ের মোবাইল নম্বর প্রদান করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে চরম উদ্বিগ্ন এবং মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করেছে বলে তার অভিযোগ।

 

এবিষয়ে জুলফিকার হাসান বলেন, আমার বন্ধু মাহিদুরের সাথে হওয়া ঝামেলার বিষয়ে জানতে ৭ম ব্লকের নিচতলার ব্লকের মিটিং রুমে আমার বন্ধু রুহুল ডেকে আনে। পরবর্তীতে সে জানতে চায় ডিপার্টমেন্টে মাহিদুরকে হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে। তখন আমি বলি এটা ডিপার্টমেন্টের বিষয় আর সেখানেই সমাধান হয়েছে। তখন তারা জানতে চায় আমি মাহিদুরকে কেন বালুচরে পেটানোর হুমকি দিয়েছি। পরবর্তীতে এটা নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়, তারা ঝামেলাও করতে চায়। তখন তারা আমার মোবাইল ফোনও চেক করে ভয়েজ শুনে। আমি এটার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।

 

এবিষয়ে মাহিদুর রহমান বলেন, ডিপার্টমেন্টে জুলফিকার ও হাসনাত আমাকে কলার ধরে মারধর করে। পরে এটা স্যার তারা সমাধান করে দিলেও পরবর্তীতে সে আমাকে বালুচরের সন্ত্রাসী দিয়ে মারবে বলে হুমকি দেয়। তখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে হোস্টেলে থাকা আমার বন্ধু রুহুলকে জানাই। তখন রুহুল আশ্বস্ত করে যে, সে জুলফিকারের সাথে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করে দিবে। আমি সেটার অপেক্ষায় আছি এখনো।

 

এবিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল ইসলাম বলেন, আমাদের বন্ধু জুলফিকার ও মাহিদুরের মধ্যে ডিপার্টমেন্টে একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। পরবর্তীতে মাহিদুর আমাকে জানায় যে, সে ভয়ে আছে, তাকে নাকি বালুচরের আশপাশে জুলফিকার পেলে ওই এলাকার সন্ত্রাসী দিয়ে মারবে। এটা জানার পর আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য বন্ধু হিসেবে জুলফিকারকে ডেকে স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞেস করি স্যার তারা সমাধান করে দেওয়ার পরও তুমি মাহিদকে হুমকি দিয়েছো, এটা সত্য কি না। তখন সে সত্য বলে জানায় এবং সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেও জানায়। তখন এর কিছুক্ষণ আগে তার হোস্টেল নিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে এটা পারিবারিক বিষয়। তখন আমি হোস্টেলের পোস্ট বললে সে নিজে থেকেই তার ফোন আমাকে দেখিয়ে বলে এবিষয়ে জানতে তার মায়ের সাথে কথা বলার জন্য। তখন আমি তার ফোন চেক না করেই সেখান থেকে চলে আসি। এখন শুনতেছি আমি নাকি তার ফোন চেক করেছি, তার মায়ের নাম্বার চেয়েছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

বিষয়টি অস্বীকার করে এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি অলিদ হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। বন্ধুদের মধ্যে হওয়া ঝামেলাকে বড় করতে একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা অতীতেও দেখে আসছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনোকিছু হলে শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি।

 

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পূর্বে হোস্টেলের সকল ব্লকের প্রিফেক্ট ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের সাথে বেয়াদবির পরিপ্রেক্ষিতে জুলফিকারকে নিয়ে বিচার করা হলে সেখান থেকে সে বেয়াদবি করে চলে আসে। পরবর্তীতে তার বেয়াদবির বিষয়ে প্রিফেক্টরা হোস্টেল সুপারকে লিখিত অভিযোগ দিলে তাকে সাময়িক শাস্তি দেওয়া হয়। তখন এই শাস্তিও সে অমান্য করে। হোস্টেল অভ্যন্তরে তার এসব অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাকে আমরা সমর্থন না করায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে হোস্টেলের ভেতর বহিরাগত অছাত্রদেরকে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার সৃষ্টি করতেই শিবিরের ওপর এই দায় চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

 

এবিষয়ে ৭ম ব্লকের সহকারী তত্বাবধায়ক প্রনব কান্তি তালুকদার বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রিন্সিপাল স্যারকে জানিয়েছি। আমরা এটার তদন্ত করতেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *